কবি বেলাল চৌধুরী-এর মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক

কবি বেলাল চৌধুরী-এর মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক

117
0
SHARE

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরী-এর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আজ ২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি বেলাল চৌধুরী কবিতা ছাড়াও সাহিত্যের অন্যসব শাখায়ও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তবে কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং নবীন লেখক ও তরুণদের তিনি অণুপ্রাণিত করেন।

উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

বেলাল চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী গ্রামে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রকাশিত ‘ভারত বিচিত্রা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। বেশ কয়েক ষাট ও সত্তরের দশকে কয়েক বছর কলকাতায় বসবাসের সময় তিনি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, পল্লীবার্তা, সচিত্র সন্ধানী ও ভারতীয় দূতাবাসের ‘ভারত বিচিত্রা’ পত্রিকার সম্পাদনার কাজে অনেকদিন নিযুক্ত ছিলেন। কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, সম্পাদনা, শিশুসাহিত্য মিলিয়ে বেলাল চৌধুরীল গ্রন্থ সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি। ‘বল্লাল সেন’, ‘ময়ূর বাহন’, ‘সব্ক্তুগীন’ প্রভৃতি ছদ্মনামেও তিনি লিখেছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিনি সমান জনপ্রিয়।

ছাত্র অবস্থায় বেলাল চৌধুরী জড়িয়ে পড়েন বাম ধারার রাজনীতিতে, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাগারেও যান। তিনি বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলী কবিতা সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বেলাল চৌধুরী সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদক অর্জন করেন। এছাড়া, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য, বেলাল চৌধুরী আজ বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়ে, দুই ছেলে আত্মীয়স্বজন সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কবির মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বেলা ১১ থেকে ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কফিন রাখা হবে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদুল জামিয়া’য় নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনীর শর্শদিতে দাফন করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY