ঢাবি কলা অনুষদের ১২৯ জন শিক্ষার্থী ও ২জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড...

ঢাবি কলা অনুষদের ১২৯ জন শিক্ষার্থী ও ২জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান

135
0
SHARE

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদভুক্ত ১৬টি বিভাগের ২০১৫ ও ২০১৬ সালের স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ১২৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ডিনস এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সেরা গবেষণা গ্রন্থ রচনার জন্য ‘ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড ফর টিচারস’ পান ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং সেরা গবেষণা প্রবন্ধ রচনার জন্য একই পুরস্কার লাভ করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকসাদুল আলম। আজ ২৪ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের স্বাগত ভাষণের পর পরিবেশিত হয় উদ্বোধনী সংগীত ও নৃত্য। উদ্বোধনী পর্বে ‘কলা অনুষদ: শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সম্মানিত অতিথি ও মূখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ধন্যবাদ প্রদান করেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সাজাহান মিয়া এবং এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন মো. ইজাজুল করিম ও আজরিন আফরিন। কলা অনুষদের প্রাক্তন ডিনবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনের জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি নিজের ও তাদের পরিবারের জন্য একটি গৌরবের ব্যাপার। সত্য ও সুন্দরের বহিঃপ্রকাশ করে একটি সুন্দর মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পায়, যা একটি সমন্বিত সমাজ বিনির্মানে সহায়ক, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মেলবন্ধন তৈরী হয়। ‘ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাও একটি মূল্যবোধ’ উল্লেখ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখান থেকে যে মূল্যবোধ ধারণ করল তা তাদের ভবিষ্যৎ পারিবারিক ও কর্মজীবনে আরও বিকশিত হবে। উপাচার্য আরও বলেন, পিতামাতার প্রতি যে দায়িত্ববোধ শিক্ষার্থীরা লালন করে, একই রকম দায়িত্ববোধ মেধাবীদের কাছে আশা করে মাতৃসম এই প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মূখ্য বক্তা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার একটি উদ্দেশ্য হল, তথ্যকে জ্ঞানে রূপান্তর করা এবং জ্ঞানকে প্রজ্ঞায় রূপান্তর করা। প্রজ্ঞা চিরস্থায়ী তাই জ্ঞানের চর্চা সবসময় জাগ্রত রাখতে হবে। বই জানালা তৈরি করে যে জানালা দিয়ে জ্ঞান প্রবেশ করে। জ্ঞানের জন্য পরিচ্ছন্ন স্থান প্রয়োজন, পরিচ্ছন্ন চিন্তা-ভাবনা ও জীবন প্রয়োজন। মতলবী স্থানে জ্ঞান বাস করতে পারে না। সংস্কৃতি মানুষকে জাগ্রত রাখে এবং জীবনে পরিশুদ্ধতা আনে। সুন্দর ও সৎ জীবন গঠন করতে শিক্ষার আদর্শ অনুযায়ী মাথা উঁচু রাখতে হবে, এজন্য দরকার উদার মানবিক চিন্তা, মূল্যবোধ ও আদর্শ।
উল্লেখ্য, ‘ডিন’স মেরিটলিস্ট অব এক্সসেলেন্স’ (জিপিএ ৪ এর মধ্যে ৪ অর্জনকারী), ‘ডিন’স মেরিট লিস্ট অব অনার’ (জিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৮৫-৩.৯৯ অর্জনকারী) ও ‘ডিন’স মেরিটলিস্ট অব একাডেমিক রিকগনিশন’ (জিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৬০-৩.৮৪ অর্জনকারী) এই তিনিটি ক্যাটাগরীতে ১২৯ জন শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY