ঢাবি-এ রোকেয়া দিবস উদযাপিত

ঢাবি-এ রোকেয়া দিবস উদযাপিত

25
0
SHARE

যথাযোগ্য মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার দিনব্যাপী ‘রোকেয়া দিবস-২০১৭’ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল মিলনায়তনে ‘রোকেয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন বক্তৃতা, স্বর্ণপদক ও বৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশন বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযান সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রোকেয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও হলের খন্ডকালীন আবাসিক শিক্ষিক সৈয়দা আতিকুন নাহার।

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী “আমরা রোকেয়ার উত্তরসূরী” শীর্ষক ফাউন্ডেশন বক্তৃতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমাজের সর্বপর্যায়ে নারীর অবস্থান ও অংশগ্রহণের চিত্র বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন ও মূল্যায়নের আলোকে বিশদভাবে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নারীর অর্জনের ও অগ্রযাত্রার পথ প্রদর্শক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। তাঁর সংগ্রাম, তাঁর জীবনগাথা, তার মেধা ও মননের আলোয় উদ্ভাসিত পথে আজ বাংলাদেশের নারী সমাজ অগ্রগামী হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ছোট বড় অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। এর প্রতিটি অর্জনই এক একটি সাহসিকতার গল্প। নারীর শিক্ষা, নারী মর্যাদা, নারীর মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ব্রত নিয়ে মহীয়সী রোকেয়া সারা জীবন যে সংগ্রাম করেছেন, তার সেই আদর্শ, সেই দীক্ষায় আজ বাংলাদেশের অনেক নারী নিজের অজান্তেই হয়তো দীক্ষিত হয়েছেন, এগিয়ে চলেছেন, বাংলাদেশও এগিয়ে চলেছে। আজ সব সাহসী পদক্ষেপ অব্যাহত রেখে আমরা যে জায়গাতে যেতে চাই সেটি আত্মতুষ্টির নয়, আত্মবিশ্বাসের জায়গা। সেই আত্মবিশ্বাসের অবস্থান থেকে আরও অনেক সাহসী উদ্যোগ বেরিয়ে আসবে, অনেক কূপমন্ডকতা দূর হয়ে যাবে, আরও অনেক সাফল্য অর্জিত হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই ফাউন্ডেশন বক্তা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরীকে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর সচেতনতা ও সফলতার দিক তুলে ধরায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণের জন্য তোমাদের রোকেয়ার দর্শনের দিকটি মেনে চলতে হবে। কেননা সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর দর্শন অত্যন্ত জরুরী। পাশাপাশি তোমাদের বিন¤্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জন ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর উদ্বৃতি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ভালো কাজ যেমন করতে হবে তেমনি ভালো শিক্ষার্থীও হতে হবে।

পরে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান রোকেয়া হলের মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে স্বর্ণপদক ও বৃত্তি প্রদান করেন। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে হলের স্বর্ণপদক পেয়েছেন- জান্নাতুল রাফিয়া (এম. এস, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ)। মেধাবৃত্তি লাভ করেছেন- প্রিয়াংকা কুন্ডু (এম.এস.এস, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ), শাহানাজ পারভীন রিমি (এম.এ, দর্শন বিভাগ), মোছা. শারমিন সুলতানা সুমি (এম.বি.এ, ফিন্যান্স বিভাগ), বিয়াস বিনতে কামাল (এম.এসসি, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ)। সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন- নুসরাত জাহান (বি.এস.এস, ৩য় বর্ষ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ), খাদিজাতুল কুবরা ফারিহা (২য় বর্ষ, বি.এস.এস,  লোকপ্রশাসন বিভাগ), রাসমিয়া নারগিস রিদা (১ম বর্ষ, বি.ফার্ম, ফার্মেসী বিভাগ) ও কানিজ ফাতেমা (১ম বর্ষ, বি.এস, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ) এবং কল্যাণ বৃত্তি পেয়েছেন আফরিন সুলতানা (২য় বর্ষ, বি.বি.এ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগ)।

এছাড়া, রোকেয়া দিবস উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর ২০১৭ সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে রোকেয়া হলের উদ্যোগে হল চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ হলের বিপুল সংখ্যক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY