ঢাবি-এ বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি

ঢাবি-এ বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি

25
0
SHARE

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য ‘বিজয় র‌্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কলাভবন প্রাঙ্গণস্থ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বিজয় র‌্যালিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের উদ্যোগে স্বাধীনতা চত্বরে পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত, মুক্তির গান ও দেশাত্মবোধক গান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিজয়ের মাসে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক মুক্তি সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, জাতি বিনির্মাণে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে গণতন্ত্রের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এজন্য আমরা গর্ববোধ করি। এই মহান জাতি যে আত্মত্যাগ করেছিল সেই ত্যাগের একটি চূড়ান্ত ঐতিহাসিক পরিণতি হল ১৬ই ডিসেম্বর। ডিসেম্বর মাস আমাদের অহংকারের মাস, গর্বের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার মাস, সর্বস্তরের বাঙালী জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সকল মানুষ শ্রদ্ধাভরে বিজয় মাসকে স্মরণ করে। শিক্ষার্থীদের মাঝে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক, উদার ও নৈতিক মানবিক মূল্যবোধের  চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে এবং সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই বিজয় র‌্যালির আয়োজন করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’র স্বীকৃতি পাওয়াকে উদ্বৃত করে উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ না দিলে ২৬ মার্চ হতো না, ১৬ই ডিসেম্বরও হতো না, একটি স্বাধীন দেশের জন্মও হতো না। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এইস্থানে দিয়েছিলেন এবং এই স্থানেই ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছিল। আমাদের স্বাধীনতা কারো দেওয়া নয়, কোন দালিলিক চুক্তির মধ্যদিয়েও হয়নি, অজস্র রক্ত ও বহু প্রাণের বিনিময়ে, বহু ত্যাগ-তিতীক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। সেজন্য আমাদের স্বাধীনতার মূল্য অনেক এবং বিশ্বের অন্য অনেক জাতির স্বাধীনতার চেয়ে ভিন্ন মর্যাদা সম্পন্ন। বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চ, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর আর বাংলাদেশ একই সুত্রে ইতিহাসের একটি অন্যটির পরিপূরক, সম্পূরক ও অনুষঙ্গ বিশেষ। আজকে আমাদের এই আনন্দ র‌্যালিটি শুধু বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটি স্পৃহাই নয়, বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY