ঢাবি’র বিশেষ সমাবর্তন : আইএইএ’র মহাপরিচালককে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান

ঢাবি’র বিশেষ সমাবর্তন : আইএইএ’র মহাপরিচালককে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান

47
0
SHARE

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে গত ৪ জুলাই ২০১৭ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানোকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাইটেশন পাঠ ও ভাষণ প্রদান করেন। প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট-সিন্ডিকেট  সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ তাঁর ভাষণে বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। কৃষি প্রধান দেশ হলেও শিল্পায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের  ক্রমবিকাশের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি উৎসসমূহ ক্রমশ সীমিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার জ্বালানির বর্ধিত চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরমাণু শক্তিকে কাজে লাগাতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উচ্চশিক্ষার পাদপীঠ হিসাবে জাতির আশা-আকাঙ্খা পূরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান বিস্তারে উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিকুলামেও সময়োপযোগী পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের উদ্ভাবন ও প্রায়োগিক জ্ঞান জাতীয় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বের মানবকল্যাণে অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক পারমাণবিক প্রযুক্তির ভালো ও মন্দ উভয় দিক উল্লেখ করে বলেন, এই প্রযুক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ সাধন করতে হবে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মানব জাতিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইএইএ’র ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কিছু অংশ উদ্ধৃত করে উপাচার্য বলেন, প্রথম থেকেই বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ্বাসী। আইএইএ ঘোষিত ‘এ্যাটমস ফর পিস’ শ্লোগানকে

তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসাবে বর্ণনা করেন। উপাচার্য বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার কার্যক্রম শুরু করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট বর্ধিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আইএইএ’র সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন। এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো তাঁর সমাবর্তন বক্তৃতায় শান্তি ও উন্নয়নে পারমাণবিক শক্তির কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পরমাণু প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান, পানি বিশুদ্ধকরণ ও কৃষি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন ও শস্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও বায়ু দূষণ রোধ এবং বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আইএইএ কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশসমূহের নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রের বিস্তার রোধ কর্মসূচীকে এগিয়ে নিতে আইএইএ সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং আইএইএ’র মধ্যে যৌথ সহযোগিতামূলক কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব লজ ডিগ্রি প্রাপ্তিকে অনেক বড় সম্মানের বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার কাজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইএইএ’র একজন পরম বন্ধু।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY