ঢাবি-এ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

ঢাবি-এ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

49
0
SHARE

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাক-হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত শহীদদের স্মরণে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে গত ২৫ মার্চ ২০১৭ সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ডকুমেন্টরী প্রদর্শন এবং এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার পূর্বে স্মৃতি চিরন্তন বেদিতে শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তাঁদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন। সভা পরিচালনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ।

আলোচনা সভায় গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স  আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ২৫ মার্চ পরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এমন বর্বরোচিত হামলার মাধ্যমে দেশকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। জহির রায়হান তার স্টপ জেনোসাইডের মাধ্যমে এই গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন। শুধু পাকিস্তান নয় তখনকার বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর দেশও সে সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। দেশের আকাশে অন্ধকার নামাতে চেয়েছিল। আজাকের এই মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে আমরা দেশের আকাশের সব অন্ধকার দূরীভূত করে দিতে চাই। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে হলেও ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করায় উপাচার্য বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরও বলেন, আজ ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখন আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে এটাকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার। এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বে গণহত্যাবিরোধী চেতনা প্রকাশ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া, জগন্নাথ হলের ‘কালরাত ও গণহত্যা দিবস পালন কমিটি’র উদ্যোগে ২৫ মার্চ ২০১৭ শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হল প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল : সকাল ১০টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা ৬টায় শহীদদের স্মরণে স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শন, ৭টায় নাট্যানুষ্ঠান, রাত ৮টায় দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি, রাত ১১টায় মশাল প্রজ্বলন, ১১টা ৫৯ মিনিটে গণসমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন। রাতে মশাল প্রজ্বলন ও শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, হলের আবাসিক শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY